গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলের হামলা, কী বলছে আন্তর্জাতিক আইন
লাগাতার ইসরায়েলি হামলার মুখে আল-আহলি আল-আরাবি হাসপাতালকে নিরাপদ ভেবেছিলেন গাজাবাসী। নানা জায়গায় হামলা হলেও অন্তত হাসপাতালে হামলা হবে না—এমনটাই ভেবেছিলেন তাঁরা। তাই অনেকে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ছিলেন আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। আরও ছিলেন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গত মঙ্গলবার রাতে এই হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রাণ গেছে শ পাঁচেক মানুষের।
হাসপাতালে এই হামলা ও হতাহতের পর থেকে ‘যুদ্ধাপরাধ’, ‘চরম নৃশংসতা’, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশে দেশে চলছে বিক্ষোভ। তবে ইসরায়েল বলছে, তারা নয়, বরং ‘অন্য পক্ষ’ এই হামলার পেছনে জড়িত। ইসরায়েল সফরকালে একই কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। স্পষ্টতই অভিযোগের তির ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদের দিকে।
এখন প্রশ্ন হলো, বেসামরিক লোকজন, বিশেষ করে হাসপাতালে হামলা করে কাউকে হত্যা করা কতটা যৌক্তিক? এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন কী বলছে?
গাজার আল-আহলি আল-আরাবি হাসপাতালটি ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত। গাজার সবচেয়ে পুরোনো হাসপাতালগুলোর একটি এটি। এর পাশেই একটি গির্জা রয়েছে। বাসেল সৌরানির মতে, পুরোনো একটি হাসপাতাল ও পাশেই গির্জা রয়েছে, এটা ভেবেই গাজার বাস্তুচ্যুত অনেকে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, এখানে অন্তত হামলা হবে না।
জাতিসংঘের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের কোনো একক নথি দিয়ে সব ধরনের যুদ্ধাপরাধের ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এ জন্য আমাদের আন্তর্জাতিক মানবিক, ফৌজদারি ও প্রথাগত আইনের বিভিন্ন শাখার শরণাপন্ন হতে হবে। সংস্থাটি বলছে, সশস্ত্র সংঘাতের সময় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়। আর যুদ্ধের সময় জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কার্যকর থাকে, যা ‘ল অব ওয়ার’ নামে পরিচিত। যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্রে এ দুই আইনের লঙ্ঘন ঘটে।
এসব আইনে যুদ্ধের সময় ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিষয়ে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে। তাই যুদ্ধরত পক্ষগুলো চাইলেই শত্রুপক্ষের যে কারও ওপর হামলা চালাতে ও হত্যা করতে পারে না।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির হুমকি দেন, ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস যদি আটক ইসরায়েলিদের অবিলম্বে মুক্তি না দেয়, তাহলে গাজায় নির্বিচার বিস্ফোরক ফেলা হবে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, যদি কোনো হামলায় বেসামরিক মানুষের জীবনের ক্ষতি সামরিক অর্জনের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেটাকে আইনের লঙ্ঘন বিবেচনা করা হবে।
মঙ্গলবার গাজায় হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় ৫০০ জনের প্রাণ গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো ধ্বংস আর প্রাণহানি বিবেচনায় একে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বলছে।
ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করার জন্য আইসিসির মনোযোগ কাড়তে পিসিএইচআর চেষ্টা করছে। ইউক্রেনে রুশ যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে আইসিসি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, এই ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। এটা হতাশাজনক।
Advertisement
চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন
সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে মরদেহ। গাজার আল-আহলি আল-আরাবি হাসপাতাল, ১৮ অক্টোবরছবি: এএফপি
যুদ্ধকালে জেনেভা কনভেনশন কার্যকর থাকে। এই আইনে যুদ্ধের নিয়মকানুন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল জেনেভা কনভেনশনে সই করা একটি দেশ। তাই আন্তর্জাতিক এই আইন মানতে বাধ্য দেশটি।
১৮৬৪ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে চারটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ধারাবাহিক রূপ জেনেভা কনভেনশন। প্রথমটিতে সামরিক বাহিনীর আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৯৪৯ সালে চতুর্থ কনভেনশন গৃহীত হয়। এতে যাঁরা সরাসরি যুদ্ধে সম্পৃক্ত নয় এমন মানুষ, বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং প্রাপ্তবয়স্ক বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার কথা বলা হয়।
আরও পড়ুন
গাজায় সংঘাত বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভেটো’
এই কনভেনশনের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে হাসপাতালকে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বেসামরিক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, যুদ্ধের সময় হাসপাতালে হামলা করা, স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতালে অবস্থানরত বেসামরিক মানুষদের হত্যা করা জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন।
প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের (পিসিএইচআর) আন্তর্জাতিকবিষয়ক অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা বাসেল সৌরানি বলেন, ফিলিস্তিনের অন্তত ১০টি হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তিনি আরও বলেন, ‘সুরক্ষিত বেসামরিক জায়গাগুলোয় হামলা করা নতুন কিছু নয়। সব প্রমাণ বিবেচনায় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা নিশ্চিত, গাজার হাসপাতালে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।’
আরও পড়ুন
হামাসের হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে এই মোহাম্মদ দেইফ
হাসপাতাল লক্ষ্যবস্তু নয়
১৯৭৭ সালে আরেকটি চুক্তি বা প্রটোকলে হাসপাতালের সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। জেনেভা কনভেনশনের আওতায় গৃহীত তিনটি প্রটোকলের প্রথমটির (অ্যাডিশনাল প্রটোকল ওয়ান) ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, যুদ্ধের সময় স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই হাসপাতালকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো যাবে না।
এ বিষয়ে দিল্লির সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সহযোগী অধ্যাপক শ্রীনিবাস বুররা বলেন, অ্যাডিশনাল প্রটোকল ওয়ান অনুমোদন করেনি ইসরায়েল। তাই প্রটোকল লঙ্ঘনের ঘটনা অনুসন্ধানে একটি আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং কমিশন সক্রিয় করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন
হামাস কারা, কী চায় তারা, কেন এই লড়াই
হেগ কনভেনশন
জেনেভা কনভেনশনে যেমন যুদ্ধে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে, তেমনি হেগ কনভেনশনে যুদ্ধকালীন আচরণ কেমন হবে, শত্রুপক্ষের প্রতি কী করা যাবে, কী করা যাবে না—এসব নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে এতে যুদ্ধকালীন চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, তা বলে দেওয়া হয়েছে।কনভেনশনের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, হাসপাতাল এবং যেসব ভবনে আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিরা আশ্রয় নিয়েছেন; অবরোধ ও বোমাবর্ষণের সময় সেসব ভবন এড়িয়ে যেতে হবে, রক্ষা করতে হবে।
তবে ইসরায়েল এই কনভেনশন অনুমোদন করেনি; যদিও আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইন অনুযায়ী, অনুমোদন না করার পরও ইসরায়েল হেগ কনভেনশনের এই বিধান মেনে চলতে বাধ্য।
আরও পড়ুন
ইসরায়েল নয়, অন্য পক্ষ গাজার হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে: বাইডেন
তদন্তের দায়িত্ব আইসিসির
রোম সংবিধি হলো এমন একটি চুক্তি, যার আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেকোনো হাসপাতাল ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা, তথা জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ উঠলে সেটার তদন্ত ও বিচার করা আইসিসির দায়িত্ব।
গাজার আল-আহলি আল-আরাবি হাসপাতালটি ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত। গাজার সবচেয়ে পুরোনো হাসপাতালগুলোর একটি এটি। এর পাশেই একটি গির্জা রয়েছে। বাসেল সৌরানির মতে, পুরোনো একটি হাসপাতাল ও পাশেই গির্জা রয়েছে, এটা ভেবেই গাজার বাস্তুচ্যুত অনেকে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, এখানে অন্তত হামলা হবে না।
ইসরায়েল রোম সংবিধির আওতায় আইসিসির কার্যক্রমের স্বীকৃতি দেয়নি। ফিলিস্তিন দিয়েছে। যেহেতু হাসপাতালে হামলার ঘটনা ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ঘটেছে, তাই আইসিসি এ ঘটনার তদন্ত করার এখতিয়ার রয়েছে। দায়ীদের বিচার করার এখতিয়ারও রয়েছে আইসিসির।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত
নীরবতা হতাশাজনক
বাসেল সৌরানি বলেন, ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করার জন্য আইসিসির মনোযোগ কাড়তে তাঁর সংগঠন পিসিএইচআর চেষ্টা করছে। ইউক্রেনে রুশ যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে আইসিসি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, এ ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। এটা হতাশাজনক।
সৌরানি আরও বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের জবাবদিহি করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তাদের নীরবতা আমাদের হতাশার দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
এ বিষয়ে শ্রীনিবাস বুররা বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি হয়তো ‘অপেক্ষা করি, দেখি কি হয়’—এমন নীতিতে এগোচ্ছে। তাই তদন্তের ঘোষণা দিতে আশ্চর্যজনকভাবে বিলম্ব করছে। এর আগে কোনো ঘটনায় এমনটা দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন
হাসপাতালে হত্যাযজ্ঞ, স্তম্ভিত বিশ্ব
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্য
ফিলিস্তিন
রক্তাক্ত ফিলিস্তিন
জাতিসংঘ
গাজা
আরব বিশ্ব
ইসরায়েল
রক্তাক্ত ফিলিস্তিন নিয়ে আরও পড়ুন
২৪ ঘণ্টায় গাজার শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইসরায়েলের
ফিলিস্তিনিদের পাশে শাদাব-আমিররা
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে কথা বললেন মোহাম্মদ সালাহ
বাইডেন আজ জাতির উদ্দেশে কী বলবেন
মধ্যপ্রাচ্য
২৪ ঘণ্টায় গাজার শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইসরায়েলের
বিবিসি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ১৪: ০১
গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ভবন। ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষের খোঁজে এক উদ্ধারকর্মী। গাজা, ফিলিস্তিন, ১৯ অক্টোবরছবি: এএফপি
গত ২৪ ঘণ্টায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, উল্লিখিত সময়কালে তারা গাজায় হামাসের ‘অবকাঠামো’ নিশানা করে এ হামলা চালিয়েছে। হামলায় হামাসের শত শত অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
সংঘাতের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে আজ সকালে এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দেয় ইসরায়েল সামরিক বাহিনী। এতে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকাজুড়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, গত ২৪ ঘণ্টার হামলায় তারা গাজায় থাকা হামাসের ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার স্থান ধ্বংস করে দিয়েছে।
এ ছাড়া গাজায় হামাসের সুড়ঙ্গ কূপ, গোয়েন্দা অবকাঠামো, আভিযানিক সদর দপ্তরসহ অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা গাজায় ১০ জনের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তাঁদের মধ্যে রাফাত আবু হিলাল নামের একজন রয়েছেন। তিনি গাজাভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন পপুলার রেজিস্ট্যান্স কমিটির সামরিক শাখার প্রধান ছিলেন। এটি গাজার তৃতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র সংগঠন।
চলমান সংঘাতের মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে গাজার আল-আহলি আল-আরবি হাসপাতালে হামলা হয়। এতে ৪৭১ জন নিহত ও ৩১৪ জন আহত হন বলে গতকাল বুধবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
হাসপাতালে হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ইসরায়েল। তারা উল্টো প্রথমে হামাস ও পরে ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) ওপর দোষ চাপায়।
৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট ছোড়ে হামাস। একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলা চালান হামাসের যোদ্ধারা। এ সময় তাঁরা বিদেশি নাগরিকসহ অনেক ইসরায়েলিকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যান। জবাবে ওই দিন থেকেই পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে তারা অবরুদ্ধ গাজায় টানা বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামাসের হামলায় ইসরায়েলের ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। হামাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৩ হাজার ৫০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও
রক্তাক্ত ফিলিস্তিন নিয়ে আরও পড়ুন
গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলের হামলা, কী বলছে আন্তর্জাতিক আইন
ফিলিস্তিনিদের পাশে শাদাব-আমিররা
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে কথা বললেন মোহাম্মদ সালাহ
বাইডেন আজ জাতির উদ্দেশে কী বলবেন
মধ্যপ্রাচ্য
ছয় ফিলিস্তিনি শিশুর মরদেহ নিয়ে মুক্ত বিশ্বকে যে বার্তা দিলেন চিকিৎসক
আল জাজিরা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ১৩: ৩৭
ছয় শিশুর মরদেহ সামনে নিয়ে ভিডিও বানিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে আকুতি জানালেন চিকিৎসক আল–আকাদ। ফিলিস্তিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভিডিও থেকে নেওয়া
ফিলিস্তিনের গাজার আল–আহলি আল–আরবি হাসপাতালে নৃশংসতম হামলায় প্রায় ৫০০ বেসামরিক নাগরিক হত্যার পরও থামছে না ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলা। গতকাল বুধবার রাতভর তারা গাজার আরও নতুন নতুন এলাকায় নির্বিচার বিমান ও বোমা হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও।
এমনই ছয় শিশুর মরদেহ নিয়ে গাজায় ইউরোপীয় হাসপাতালে একটি ভিডিও বানিয়েছেন এক চিকিৎসক। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই ভিডিও প্রকাশ করেছে।
এতে দেখা যায়, হাসপাতালের চিকিৎসক ইউসেফ আল–আকাদের সামনে ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহত ছয় শিশুর নিথর মরদেহ। দাফনের জন্য প্রস্তুত সেই ছোট ছোট মরদেহগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি একটি বার্তা দিচ্ছেন।
আল–আকাদ তাঁর বার্তায় বলছিলেন, ‘দেখুন এসব শিশুদের। এসব শিশুকে কারা হত্যা করেছে?’
আল–আকাদ বলেন, ‘মুক্ত বিশ্ব, তুমি কোথায়? এই শোকাহত ও নির্যাতিত মানুষের ওপর গণহত্যা চলছে।’
৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর প্রতিশোধ হিসেবে গাজায় পাল্টা বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। তাদের বাছবিচারহীন হামলায় কেবল গত ১১ দিনে (১৭ অক্টোবর পর্যন্ত) ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, ইসরায়েলি বোমায় প্রতি ১৫ মিনিটে গাজায় একটি শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন
শিশু
নিহত
ফিলিস্তিন
ভিডিও
ইসরায়েল
নিহত নিয়ে আরও পড়ুন
কুষ্টিয়ায় যুবকের হাত-পা ভাঙা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা, চাচাতো বোন গ্রেপ্তার
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনার গুলিতে ৫ ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত
নিরাপদ ভেবে হাসপাতালে আশ্রয় নিয়ে মিনিটেই জীবন শেষ তাদের
এক ভয়ানক রক্তক্ষয়ী দিনের সাক্ষী হলো গাজা
মধ্যপ্রাচ্য
যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ইসরায়েলি এমপিকে সাময়িক বরখাস্ত
আল জাজিরা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ১২: ৪৫
ওফার ক্যাসিফছবি: এএফপি ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় বামপন্থী এক এমপিকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পার্লামেন্টের নীতিবিষয়ক প্যানেল প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে।
তাঁর নাম ওফার ক্যাসিফ। ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর তিনি ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দিয়েছিলেন।
এক সাক্ষাৎকারে ক্যাসিফ অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় এমন একটি পরিকল্পনা কার্যকর করতে চাইছেন, যা ইউরোপে ইহুদিদের বিরুদ্ধে নাৎসিদের নেওয়া ‘চূড়ান্ত সমাধান’-এর সমতুল্য।
আলাদা সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ক্যাসিফ বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ইসরায়েলই এই সহিংসতা চেয়েছিল।’
জেরুজালেম পোস্টে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাসিফকে ৪৫ দিনের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ক্যাসিফ লিখেছিলেন, নেসেটের সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কফিনে আরেকটি পেরেক ঠোকার শামিল।
ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাস ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। জবাবে ওই দিনই পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এই সংঘাতে দুই পক্ষের চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন
ফিলিস্তিন
গাজা
ইসরায়েল
ইসরায়েল নিয়ে আরও পড়ুন
২৪ ঘণ্টায় গাজার শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইসরায়েলের
গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলের হামলা, কী বলছে আন্তর্জাতিক আইন
ছয় ফিলিস্তিনি শিশুর মরদেহ নিয়ে মুক্ত বিশ্বকে যে বার্তা দিলেন চিকিৎসক
কেন মাকড়সার কারণে দুই বছর সড়ক সংস্কার পিছিয়েছিল?
মধ্যপ্রাচ্য
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে কথা বললেন মোহাম্মদ সালাহ
বিবিসি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ১১: ৫৩
মোহাম্মদ সালাহফাইল ছবি: রয়টার্স
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে কথা বলেছেন মিসরের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। চলমান সংঘাতে আরও নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধে তিনি বিশ্বনেতাদের এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
লিভারপুলের ৩১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইটার) ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, অনেক সহিংসতা, প্রাণঘাতী মর্মবেদনা ও বর্বরতা হয়েছে।
ফিলিস্তিনের গাজার মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার সামগ্রী দরকার বলে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ সালাহ। তিনি বলেছেন, গাজায় অবিলম্বে মানবিক সাহায্য পাঠানোর অনুমতি দিতে হবে।
মোহাম্মদ সালাহ বলেছেন, সব জীবনই গুরুত্বপূর্ণ। সবার জীবন অবশ্যই রক্ষা করা উচিত। গণহত্যা বন্ধ করা দরকার। পরিবারগুলোকে ছিন্নভিন্ন করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ সালাহ বলেন, ‘আরও নিরীহ মানুষ হত্যা রোধে এক হওয়ার জন্য আমি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
মোহাম্মদ সালাহ আরও বলেছেন, মানবতা অবশ্যই জয়ী হবে। চলমান সংঘাতের মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে গাজার আল-আহলি আল-আরাবি হাসপাতালে হামলা হয়। এতে ৪৭১ জন নিহত ও ৩১৪ জন আহত হয়েছেন বলে গতকাল বুধবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
হাসপাতালে হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ইসরায়েল। তারা উল্টো প্রথমে হামাস ও পরে ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) ওপর দোষ চাপায়।
৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট ছোড়ে হামাস। একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলা চালান হামাসের যোদ্ধারা। এ সময় তাঁরা বিদেশি নাগরিকসহ অনেক ইসরায়েলিকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যান।
জবাবে ওই দিন থেকেই পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে তারা অবরুদ্ধ গাজায় টানা বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
হামাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৩ হাজার ৫০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন
হামলা
মধ্যপ্রাচ্য
ফিলিস্তিন
রক্তাক্ত ফিলিস্তিন
আরব বিশ্ব
হামাস
ইসরায়েল
রক্তাক্ত ফিলিস্তিন নিয়ে আরও পড়ুন
২৪ ঘণ্টায় গাজার শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ইসরায়েলের
গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলের হামলা, কী বলছে আন্তর্জাতিক আইন
ফিলিস্তিনিদের পাশে শাদাব-আমিররা
বাইডেন আজ জাতির উদ্দেশে কী বলবেন
0 Comments